

সৈয়েব হোসেন সম্রাট : বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সড়কের দুই পাশে কাটা গাছের গুঁড়ি ও কাঠের স্তূপ পড়ে থাকায় সৃষ্টি হচ্ছে জনদুর্ভোগ। অভিযোগ রয়েছে, গাছগুলো দীর্ঘ সময় ধরে মহাসড়কের পাশে রাখা হচ্ছে। পরে এসব গাছ ট্রাকে বোঝাই করার সময় ট্রাক, শ্রমিক ও কাঠের অংশ সড়কের জায়গা দখল করায় ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল। ব্যস্ত এই মহাসড়কে এমন পরিস্থিতি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সড়ক ব্যবহারকারীরা।
সরেজমিনে যা দেখা গেল সরেজমিনে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে দেখা যায়, সড়কের দুই পাশে কেটে রাখা হয়েছে বড় বড় গাছের গুঁড়ি ও কাঠ। কোথাও সড়কের একেবারে লাগোয়া, আবার কোথাও চলাচলের জায়গার কাছাকাছি এসব কাঠ স্তূপ করে রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, শুধু কাঠ পড়ে থাকার মধ্যেই সমস্যা সীমাবদ্ধ নয়। এসব গাছ ট্রাকে তোলার সময়ই মূলত বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। ট্রাক দাঁড় করিয়ে গাছ ওঠানো, শ্রমিকদের চলাচল এবং কাঠ সরানোর কাজে মহাসড়কের একটি অংশ সাময়িকভাবে ব্যবহৃত হওয়ায় যানবাহনের স্বাভাবিক গতি কমে যায়। বিশেষ করে একই সময়ে দুই দিক থেকে বাস, ট্রাক বা ভারী যানবাহন এলে সংকুচিত অংশ দিয়ে পাশ কাটাতে গিয়ে চালকদের ঝুঁকি নিতে হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়?
স্থানীয়দের অভিযোগ, গাছ বোঝাইয়ের কাজে ব্যবহৃত ট্রাক অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ সড়কের পাশে অবস্থান করে। এ সময় পেছনে যানবাহনের সারি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ভারী যানবাহনের পাশাপাশি মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও অন্যান্য ছোট যানবাহনও ঝুঁকি নিয়ে ওই স্থান অতিক্রম করে। তবে এসব ঘটনায় নিয়মিত কতক্ষণ যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, কতটি যানবাহন আটকে পড়ছে কিংবা এ কারণে ইতোমধ্যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে কি না—তার সুনির্দিষ্ট তথ্য স্থানীয়ভাবে সংরক্ষিত নেই। ফলে বিষয়টি নিয়মিত নজরদারির আওতায় আনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। প্রশ্ন উঠছে গাছগুলো কোথা থেকে কাটা হচ্ছে? অনুসন্ধানে আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে—মহাসড়কের পাশে পড়ে থাকা এসব গাছ কার? কোন কর্তৃপক্ষ বা মালিকের অনুমতিতে গাছগুলো কাটা হয়েছে? গাছ কাটার পর সেগুলো কোথায় নেওয়ার কথা ছিল? আর কেনই বা মহাসড়কের পাশে দীর্ঘ সময় ধরে কাঠের স্তূপ পড়ে থাকবে? স্থানীয়দের দাবি, বৈধভাবে কাটা গাছ হলেও সেগুলো মহাসড়কের চলাচলের জায়গা বা সড়কের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এমন স্থানে রাখা উচিত নয়। আর কোনো গাছ অনুমোদন ছাড়া কাটা হয়ে থাকলে সেটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের বিষয়। মহাসড়ক কি কাঠ রাখার জায়গা? সড়ক ব্যবহারকারীদের প্রশ্ন, একটি ব্যস্ত জাতীয় মহাসড়কের পাশে দীর্ঘ সময় ধরে বড় বড় গাছের গুঁড়ি রাখার অনুমতি আছে কি না। থাকলে সেই অনুমতির শর্ত কী? গাছ বোঝাইয়ের সময় ট্রাক সড়কের কতটুকু অংশ ব্যবহার করতে পারবে?
এ বিষয়ে কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থা বা সতর্কীকরণ ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে কি না এসব প্রশ্নেরও উত্তর প্রয়োজন। কারণ, দিনের বেলায় চালকরা কোনোভাবে পরিস্থিতি বুঝে পাশ কাটিয়ে গেলেও রাতের বেলায় একই স্থানে কাঠের স্তূপ, দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাক ও শ্রমিক থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে। নজরদারি কোথায়? স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়কের পাশে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলেও নিয়মিতভাবে সেগুলো অপসারণ বা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারি দেখা যায় না। অথচ মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সড়ক কর্তৃপক্ষ, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত নজরদারি প্রয়োজন।
এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠছে—সড়কের জায়গা ব্যবহার করে কাঠ বোঝাইয়ের ঘটনায় কোনো অনুমতি নেওয়া হচ্ছে কি না এবং অনুমতি থাকলে সেটি বাস্তবায়ন ও তদারকি করছে কারা? দুর্ঘটনার আগে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত সড়ক ব্যবহারকারীরা বলছেন, দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে আগেই ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। মহাসড়কের পাশে থাকা গাছের গুঁড়ি দ্রুত অপসারণ, সড়কের জায়গা দখল করে কাঠ বোঝাই বন্ধ এবং প্রয়োজন হলে নির্ধারিত নিরাপদ স্থানে ট্রাক রেখে গাছ বোঝাইয়ের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে কাটা গাছগুলোর মালিকানা, গাছ কাটার অনুমোদন এবং পরিবহনের বৈধ কাগজপত্র রয়েছে কি না—এসব বিষয়ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রয়োজন বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কটি দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। এ সড়কে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করে। ফলে সড়কের পাশে সাময়িকভাবে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলেও তা বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাই শুধু কাঠের স্তূপ সরিয়ে দেওয়াই নয়, গাছগুলো কীভাবে কাটা হলো, কার অনুমতিতে কাটা হলো, কোথায় সংরক্ষণ করা হচ্ছে, মহাসড়কের পাশে কেন রাখা হয়েছে এবং ট্রাকে বোঝাইয়ের সময় সড়ক ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা জরুরি।
স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং ভবিষ্যতে মহাসড়কের পাশে গাছ, কাঠ বা অন্য কোনো সামগ্রী রেখে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরির সুযোগ বন্ধ করবে। সড়ক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের মতে, দুর্ঘটনা ঘটার পর দায় নির্ধারণের অপেক্ষা না করে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো এখনই চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।

Posted ৭:১৪ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক গণবার্তা – গণমানুষের আওয়াজ | Gano Barta


